বালিখলা হাওর

বালিখলা হাওর

ভূমিকা-

বালিখলা হাওর– অল্প সময়ে কম খরচে ভ্রমনের স্থান কিশোরগঞ্জ এর বালিখলা। শীতের মৌসুমে রাস্তার দুইপাশে শিশির বিজা ধানক্ষেত এবং বর্ষার সময় রাস্তার দুই পাশে থই থই জল দেখার অন্যতম সৌন্দর্য ভরপুর স্থান কিশোরগঞ্জ জেলাধীন করিমগঞ্জ থানাধীন বালিখোলার রাস্তা। বালিখলার রাস্তার অন্যতম সৌন্দর্য ও পর্যটকদের আকর্ষণ বালিকলা বেরিবাধ। হাওরের মধ্যে বাসমান গ্রামগুলো বর্ষাকালে দীপের মত মনে হয়। বর্ষার পানির মধ্যে মাথা উচু করে চলমান হাওরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী রাস্তা রৌয়া ও  নিয়ামতপুর-বালিখলা সংযুক্ত হয়েছে যার দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার। শুকনো মৌসুমে গাড়ি দিয়ে ভ্রমন করা যায় এবং বর্ষাকালে রয়েছে নৌকায় এবং গাড়িতে ভ্রমনের উভয় সুবিধা। সময়ের প্রতি খেয়াল রাখলে ঢাকা এবং তার আশপাশ থেকে ১ দিনে ঘুরে আসা সম্ভব।

একদিনে সম্ভব?

ভ্রমণ প্রেয়সীদের কাছে কত সময় লাগবে ভ্রমন করতে এটা তাদের ভাবার বিষয় নয়। ভ্রমনটায় তাদের মূখ্য বিষয়। দেশের যে কোন স্থান থেকে বাধাহীন ভাবে ভ্রমন করা যাবে বালিখলায় হাওরের রাস্তা। তবে ঢাকা ও তার আসপাশ থেকে খুব কম সময়ে অর্থাৎ মাত্র ১ দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব যদি ঢাকা থেকে সকাল ৭ ঘটিকার আগে রওনা দেওয়া যায়। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেনে, বাসে অথবা ইঞ্জিল চালিত অন্য যানবাহনে আসে পারবেন। ট্রেনে আসতে সময় লাগবে ৪ ঘন্টা (কিছু কম বা বেশি) । বাসে অথবা অন্য কোন ইঞ্জিন চালিত যানে আসলে ৩:৩০-৪:৩০ ঘন্টা (নির্ভর করে রাস্তার ট্রাপিক জ্যাম এর উপর)।

আসার সময় ট্রেনের আসার সুবিধা থাকলে একই দিনে সন্ধ্যার ফিরতে চাইলে ট্রেনে ফিরা সম্ভব হবে না, কারণ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা গামী সর্বশেষ ট্রেন বিকাল ৪টায় কিশোরগঞ্জ হতে ছাড়ে। যেহেতু ট্রেন ও বাস উভয়ে যাতায়তের সুবিধা রয়েছে তাই ট্রেন না ফিরতে পারলেও বাসে ফিরা সম্ভব। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ফিরার বাস ছাড়ে সন্ধ্যা ৬:৫০ মিনিটে। এক দিনে ভ্রমন করে ঢাকা ফিরতে চাইলে সময়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী। বালিখলার খুব নিকটেই চামটা বা চামড়া বন্দর।  চামটা বন্দরও কিশোরগঞ্জ এর আরেকটি দেখার মত স্থান। চমড়া বা চমটা বন্দর থেকে বাসে একটানা যারনীতে ঢাকা ফিরা সম্ভব।  কিশোরগঞ্জ হতে ছেড়ে যাওয়া বাস থেকে চমটা বন্দর এর বাসগুলোর সার্ভিস তুলনা মূলক খারাপ। পর্যাপ্ত পরিমানের সময় হাতে না থাকলে চমটা বন্দর হতে বাসে ঢাকা ফিরতে পারেন।

হাতে সময় থাকলে আর কি কি দেখতে পারবেন?

বালিখলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ এ দেখার মত আরও অনেক স্থান রয়েছে। বালিখলা দেখার পর যদি অতিরিক্ত সময় থাকে তবে আগ্রহ থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের বাড়ি মিটাইনমন ঘুরতে পারেন। বালিখলা থেকে নৌকার মাধ্যমে মিঠাইমন খুব সহজে যাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের বাড়ির পাশে রাস্তাটাও দেখার মত স্থান। বর্ষার সময় উনার বাড়ির সমনে রাস্তাটা মিনি কক্সবাজার। বালিকলা থেকে মিঠাইমন যেতে হলে বর্ষাকলে নৌকাযোগে যেতে হবে। নৌকাযোগে বালিখলা থেকে মিঠাইমন যাওয়া আসা করতে ৩ ঘন্টা বা তার কম বেশি সময় লাগতে পারে। এছাড়াও কিশোগঞ্জে দেখার মত রয়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের লেকসিটি পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার, পাগলা মসজিদ, ঈতিহাসিক শহিদি মসজিদ, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ, জঙ্গলবাড়িতে ঈশাখার বাড়ি। 

ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেন?

কোথায়ও ভ্রমণ করতে চাইলে এইখানে কিভাবে কম সময়ে যাওয়া যায় তা জানা থাকা দরকার। ঢাকা থেকে ট্রেনে এবং বাসে  কিশোগঞ্জ এ আসা যায়। পরে কিশোরগঞ্জ হতে সিএনজি ও ইজিবাইকে বালিখলাতে যাওয়া যায়। তবে কম সময়ে কিশোরগঞ্জ হতে বালিখলাতে যেতে চাইলে সিএনজিতে যাওয়ায় ভাল।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ 

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ আসতে হলে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন অথবা এয়ারপোর্ট এ আসতে হবে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন হতে এগারোসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭:১৫ মিনিটে। ট্রেন এর ভাড়া শ্রেনী অনুযায়ী কম বেশী ১২৫ থেকে ২০০ টাকা। এগারোসিন্ধুর প্রভাতী কিশোরগঞ্জে পৌছায় সকাল ১১:১৫ মিনিটে বা তার একটু আগে পরে। কিশেরাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৩-৫ মিনিট হাটলে একমরাপুর সিএনজি স্টেশনে পৌছানে যায়। একরামপুর হতে সিএনজি নিয়ে বালিখলাতে চলে যাবেন। একরামপুর থেকে বালিখলার দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার।

বাসে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ 

বাসে আসতে চাইলে মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি আসতে পারেন। মহাখালী থেকে আসতে হলে অনন্যা পরিবহণ বা অনন্যা ক্লাসিক এ আসতে হবে এবং সায়েদাবাদ থেকে আসতে হলে যাতায়াত বা অনন্যা সুপারে আসতে হবে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম না থাকলে সায়েদাবাদ থেকে কিশোগঞ্জ আসতে সময় লাগবে ৪ ঘন্টা এবং মহাখালী থেকে আসতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা। বাস স্টেশন হতে ইজি বাইকে একরামপুর সিএনজি স্টেশনে চলে আসতে হবে।

কোথায় খাবেন?

বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র না হওয়ায় খাওয়া থাকার তেমন কোন ভাল ব্যবস্থা নেই। বালিখলাতে কয়েকটা টং দোকান আছে। যে গুলোতে হালাকা নাস্তা করা যায়। তবে চামড়া বন্দরে গেলে সেখানে বালিখলার তুলনায় ভালমানের খাওয়ার হোটন পাওয়া যাবে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরেও খাবার খেয়ে নেওয়া যেতে পারে। এইখানে সম্ভব না হলে আসার সময় করিমগঞ্জ বাজারে খেয়ে নেওয়া যেতে পারে।

কোথায় থাকবেন?

কিশোরগঞ্জে দেখার মত অনেক সুন্দর সুন্দর স্থান  আছে। সবগুলো স্থান ঢাকা বা তার আশপাশ থেকে গিয়ে একদিনে দেখা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে রাতে থাকার প্রয়োজন হলে কিশোরগঞ্জ শহরের আবাসিক হোটেল আছে সেগুলোতে থাকতে পারেন। এক রাতের জন্য হোটেল ভাড়া ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা ।

কখন ভ্রমণ করা উচিত?

হাওরের সৌন্দর্য পানিতে। বর্ষার সময় হাওরের পানির যৌবন কাল। তাই বর্ষাকালে ভ্রমণ করলে একই সাথে রাস্তার সৌন্দর্য ও হাওরের যৌবনের রূপ উপভোগ করা যাবে। তবে জুলাই ও আগস্ট মাস হাওর ভ্রমণের ভাল সময়।

সতর্কতা

বর্ষায় হাওরে অনেক পানি থাকে, তাই সাথে লাইফ জ্যাকেট থাকলে ভাল হয়।  সাতার না জানলে এবং সাথে লাইফ জ্যাকেট না থাকলে পানিতে নামবেন না। ভ্রমণ করার সময়, সময়ের প্রতি খেয়াল থাকে না। যদি একদিনে ভ্রমণ করে ফিরতে চান তবে সময়ে প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *